লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে সীমা আক্তার (পরিবর্তিত নাম) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও আগুনে দগ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে সীমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। সর্বশেষ কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে একটি ছাগল দাবি করা হয়। দাবি পূরণ করতে না পারায় সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে আগুনে দগ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আহত সীমা কমলনগর উপজেলার পূর্ব চর ফলকন গ্রামে বাবার বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সীমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার কাছে টাকা ও বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করা হতো। কোরবানির জন্য ছাগল দিতে না পারায় তাকে মারধর করা হয় এবং মুখে আগুন লাগায় বলেও অভিযোগ করে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তার পরিবার জানায়, দরিদ্র অবস্থার কারণে ধারদেনা করে বিয়ে দেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন থামেনি। বর্তমানে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক ধর্মীয় নেতা বলেন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি ও নির্যাতন ইসলাম ও মানবতার পরিপন্থী। কোরবানির মতো ধর্মীয় বিষয়কে চাপ বা জুলুমের কাজে ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য।
অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিম ও শ্বশুর মিনাজ উদ্দিন মেজু ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, ভুক্তভোগীর মুখে পোড়া দাগ রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

