নাটোরের সিংড়ায় বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত খননকে কেন্দ্র করে দুই ছেলের বিরোধের জেরে নিজের মাকেই গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ টয়লেটের গর্তে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ও তার এক ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে সিংড়া থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামের বাসিন্দা মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫) গত ২৫ মে রাতে নিহত হন। এর আগে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত খনন নিয়ে বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেজো ছেলে জনাব আলীর কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মা মারিয়া বেগম বড় ছেলের পক্ষ নিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জনাব আলী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ক্ষোভ থেকেই ২৫ মে রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার মাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টয়লেটের জন্য খোঁড়া গর্তে ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রায় ১০ দিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে জনাব আলী তার ছেলে আল আমিনের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তাবন্দি করে গভীর রাতে বাড়ির পাশের কচুরিপানায় ঢাকা একটি ডোবায় ফেলে দেন।
এদিকে ৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম তার মায়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সিংড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের একপর্যায়ে ৯ জুন পুলিশ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পরে নিহতের চার ছেলে ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনাব আলী হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জনাব আলী ও তার ছেলে আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জনাব আলী সরাসরি জড়িত থাকলেও মরদেহ গোপনে সরিয়ে ফেলতে সহযোগিতা করায় আল আমিনকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

