দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্দা উঠছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের। এবার ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪) এবং মেক্সিকো (১৯৭০ ও ১৯৮৬) বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, এবারই প্রথমবারের মতো কানাডা বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাচ্ছে। তিন দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী এই আসরে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল (১১ জুন) মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকায় (আজটেকা স্টেডিয়াম) মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের খেলা। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।
তিন দেশে একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এক ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে—একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথমবার একাধিক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিটি দেশের অনুষ্ঠান শুরু হবে নিজ নিজ উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। আলাদা হলেও সব আয়োজন একটি অভিন্ন থিমে যুক্ত থাকবে—ফুটবলের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের ঐক্য ও সংযোগের বার্তা।
অনুষ্ঠানগুলোর ক্রিয়েটিভ ডিরেকশন ও প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন মার্কো বালি, যিনি এর আগে একাধিক অলিম্পিকসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি জানান, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে সাজানো হলেও ফুটবলের ঐক্যবদ্ধ বার্তাই মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল থিম
তিন দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় আলাদাভাবে উপস্থাপন করবে—
- কানাডা: ‘কালচারাল মোজাইক’—দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়
- মেক্সিকো: ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প ও লোকজ সংস্কৃতি
- যুক্তরাষ্ট্র: আধুনিক, ঝলমলে ও গ্র্যান্ড ভিজ্যুয়াল থিম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে উদযাপন করে। মেক্সিকো সিটি থেকে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত এই আয়োজন সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হবে।
তিন শহরের পৃথক আয়োজন
মেক্সিকো সিটি (১১ জুন)
এস্তাদিও অ্যাজটেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প ও ‘পাপেল পিকাডো’ প্রদর্শিত হবে। এতে অংশ নেবেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পী।
টরন্টো (১২ জুন)
কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বহুজাতিক পরিচয়ভিত্তিক অনুষ্ঠান। এখানে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহিসহ অনেকে।
লস অ্যাঞ্জেলেস (১২ জুন)
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বিশাল ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো শিল্পীদের পারফরম্যান্স।
প্রতিটি অনুষ্ঠানের পর মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ প্রোটোকল এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ সম্পন্ন হবে।
মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড এবং টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।

