লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে চালানো ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার জেরে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে লেবাননে নতুন করে ইসরাইলি হামলা শুরুর পর ইরানি প্রতিনিধি দল আদৌ আলোচনায় যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা থাকলেও লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে তেহরান।
মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে এ আলোচনা সফল হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বার্গেনস্টকে এই স্পর্শকাতর আলোচনার জন্য গোপন ও নিরাপদ পরিবেশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলায় ইসরাইলি হামলায় ১৬ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া টায়ার জেলার বারিশ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। পূর্ব বেকা উপত্যকায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। হামলায় লেবাননের এক সেনাসদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
লেবানন সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধারাবাহিক এই হামলার উদ্দেশ্য দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিহ অঞ্চলে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
এর জবাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ৫০টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
হিজবুল্লাহর সংসদীয় প্রতিনিধি আলী ফায়াদ সাফ বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনা অবস্থান করা অবস্থায় কোনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া হবে না এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে চলমান সহিংসতার কারণে সেই বৈঠক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

