বিশ্বকাপের দুই ‘ডার্ক হর্স’ নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াইয়ে দেখা গেল দারুণ উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। নির্ধারিত সময় থেকে অতিরিক্ত সময়— কোথাও মেলেনি সমাধান। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। তবে সুযোগ তৈরিতে কিছুটা এগিয়ে ছিল মরক্কো। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা এক ক্রসে পোস্টের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়েও বল স্পর্শ করতে পারেননি ইসমাইল সাইবারি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে গতি বাড়ায় নেদারল্যান্ডস। ৭১ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় ডাচরা। পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়া সামারভিল ফাউলের শিকার হলেও বল পৌঁছে দেন গাকপোর কাছে। তিনিও চাপের মধ্যেই নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠান।
ম্যাচ জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় তালবির বাড়ানো লম্বা ক্রসে হেড করে গোল করেন ঈসা দিওপ। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে মরক্কো এবং ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই সুযোগ তৈরি করে। সপ্তম মিনিটে সুফিয়ান রাহিমি গোলরক্ষকের সামনে একা সুযোগ পেলেও অবিশ্বাস্য সেভ করেন নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক ভেরব্রুগেন। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় অতিরিক্ত সময়ও।
এরপর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসের কুপমাইনার্স গোল করলেও মরক্কোর নেইল এল আইনানুই শট উড়িয়ে দেন। তবে এরপর জাস্টিন ক্লুইভার্টের মিসে সমতায় ফেরে ম্যাচ।
রাহিমি ও তালবির সফল স্পট কিকে মরক্কো লড়াইয়ে টিকে থাকে। অন্যদিকে কুইন্টেন টিম্বার শট বাইরে মারেন। যদিও আশরাফ হাকিমিও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
শেষদিকে নাটক আরও জমে ওঠে। নেদারল্যান্ডসের সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনো। এরপর শেষ শটে ইসমাইল সাইবারি কোনো ভুল করেননি। তার জোরালো শট জালে জড়াতেই ৩-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কো।
এই জয়ে গেল আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো উঠে গেল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে।

