বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা তরুণদের খুঁজে বের করে করার উদ্যোগ নিয়েছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস অব বাংলাদেশ (টিওওয়াইপি) ২০২৬’। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী এমন ১০ জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যাদের নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, সাহস, অধ্যবসায় ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ‘জেসিআই বাংলাদেশ টিওয়াইপি ২০২৬: দ্য প্রিলুড-অফিসিয়াল ক্যাম্পেইন লঞ্চ অ্যান্ড মিডিয়া এনগেজমেন্ট’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এতে জেসিআইয়ের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, অংশীদার, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেসিআইয়ের ‘টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস’ বা ‘টিওয়াইপি’ একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি কর্মসূচি। যার মাধ্যমে এমন তরুণদের সামনে নিয়ে আসে যারা উৎকর্ষ, সততা, উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জেসিআই বাংলাদেশ জানিয়েছে, টিওওয়াইপি তাদের কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি এমন মানুষদের স্বীকৃতি, যারা সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, বাধা অতিক্রম করেছেন, সীমাবদ্ধতা ভেঙেছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাস্তব ও অর্থবহ প্রভাব সৃষ্টি করেছেন। এখানে শুধু সাফল্য নয়—স্বীকৃতি পায় সাহস, অধ্যবসায়, উদ্দেশ্যবোধ এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার শক্তি।
বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্র থেকে উঠে আসা টিওওয়াইপি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেখান, দায়িত্ববোধের সঙ্গে উচ্চাকাঙ্ক্ষা যুক্ত হলে ব্যক্তিগত অর্জন কীভাবে বৃহত্তর সমাজের জন্য মূল্য তৈরি করতে পারে। তাদের কাজ শিল্পখাতকে বদলে দিতে পারে, নতুন ধারণার জন্ম দিতে পারে, কমিউনিটিকে শক্তিশালী করতে পারে, সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্যদেরও এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল সেক্রেটারি জেনারেল সিনান আরেফিন টিওওয়াইপির পরিচিতি এবং বিশ্বজুড়ে অসাধারণ তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়ার এ কর্মসূচির দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এই বৈশ্বিক উদ্যোগটি বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী তরুণ নেতা ও চেঞ্জমেকারদের গল্পকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
জেসিআই বাংলাদেশ-২০২৬’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ বলেন, ‘টিওয়াইপি শুধু সাফল্য উদযাপনের বিষয় নয়। এটি তাদের স্বীকৃতি, যারা সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্থবহ পরিবর্তন সৃষ্টি করেছেন। তাদের যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রভাব তৈরি হয় স্থিতিস্থাপকতা, বিশ্বাস এবং কঠিন পথেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস থেকে।’
জেসিআই বাংলাদেশের অ্যাডভাইজার টু ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইরফান হক বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মনোনয়ন আসুক, যেন কোনো যোগ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প অজানা থেকে না যায়। এই মানুষগুলোর অর্জন, সংগ্রাম ও প্রভাবের গল্প সবার সামনে তুলে ধরে আমরা আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করতে চাই।’
অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ডিরেক্টর জাফির শাফিঈ চৌধুরী বলেন, ‘জেসিআই বাংলাদেশ তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে এবং তাদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস অব বাংলাদেশ-এর গল্পগুলো জানার মাধ্যমে আমরা চাই তরুণরা নিজেদের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে দেখুক, বিশ্বাস করুক যে বড় কিছু সম্ভব, এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্থবহ প্রভাব তৈরির স্বপ্ন দেখুক।’
টিওয়াইপি ২০২৬-এর জন্য ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে। মনোনীত ব্যক্তিদের অর্জন, সমাজে প্রভাব, নেতৃত্ব, সততা, স্থিতিস্থাপকতা ও অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর।
জেসিআই বাংলাদেশ হলো জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বা জেসিআইয়ের বাংলাদেশে জাতীয় সংগঠন। বৈশ্বিক এ সংগঠনের তরুণ সদস্যরা নেতৃত্ব উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সক্ষমতা, কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট বা সামাজিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করে থাকেন।

