সুদানে চলমান সংঘাতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অন্তত ২০ শিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশুদের বেশিরভাগই দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের করদোফান ও দারফুর অঞ্চলের বাসিন্দা। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুদানে নিহত শিশুদের অধিকাংশই করদোফান ও দারফুর রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছে। সুদানসহ পুরো অঞ্চলে শিশুদের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইউনিসেফ সতর্ক করে জানায়, চলমান সংঘাতের ফলে সুদানে লাখ লাখ শিশু এখন জীবনরক্ষাকারী সহায়তা, সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা পুনরুদ্ধারের তীব্র প্রয়োজনের মুখে রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, উত্তর দারফুরের আল-ফাশের এবং করদোফানের কাদুগলি এলাকায় ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ২০টি এলাকা দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের মোট ১৮টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যের প্রায় সবকটিই বর্তমানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে উত্তর দারফুরের কিছু অংশ এখনও সুদানি সেনাবাহিনীর দখলে আছে। অন্যদিকে দেশের বাকি ১৩টি রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা—দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলসহ রাজধানী খার্তুম—সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং কোটি মানুষের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

