চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামের কৃষকরা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোভানিয়া-আবুতোরাব খাল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভরাট হয়ে থাকায় এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমি প্রতি বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায়। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে মাঠের ধান সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি জমে থাকায় ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, পাকা ধান মাঠে পানিতে ডুবে থাকায় পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের জোঁকসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণে ধান কাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক সাইফউল্লাহ ও আজিজুল হক জানান, তারা ঋণ ও বর্গা জমিতে প্রায় দুইশ একর জমিতে ইরি ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে তাদের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, একেকজন কৃষকের প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে এবং নিজেদের পরিবারের চালের চাহিদাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষকরা আরও জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব—উভয় সমস্যাই নিয়মিত হচ্ছে। এক যুগ ধরে বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, পানি নেমে গেলে কৃষকদের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার জানান, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত খাল খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

