ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর অল্প কিছুদিন বাকি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টের। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ।
তবে বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্টেডিয়ামে যাতায়াত ব্যয়। শুরুতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার টাকার সমান। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সেই ভাড়া কমিয়ে ৯৮ ডলার করা হয়েছে।
শাটল বাসের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে ভাড়া ধরা হয়েছিল ৮০ ডলার, এখন তা কমিয়ে ২০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সাধারণ সময়ে একই রুটে যাতায়াত খরচ মাত্র ১২ দশমিক ৯০ ডলার।
ইংল্যান্ডের ফুটবল সমর্থক সংগঠনের নেতা থমাস কনক্যানন এই অতিরিক্ত ভাড়াকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে সমালোচনা করেন। তার মতে, আগের বিশ্বকাপগুলোতে—বিশেষ করে কাতার ও রাশিয়ায়—সমর্থকদের জন্য অনেক যাতায়াত সুবিধা বিনামূল্যে ছিল। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে খরচ অনেক বেশি।
নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল আগেই জানিয়েছিলেন, ফিফা ভর্তুকি না দিলে স্থানীয় করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না। পরে বাণিজ্যিক স্পনসরদের সহায়তায় অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই ভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেছেন, সাধারণ দর্শকদের নাগালের মধ্যে ভাড়া রাখতে বাসের ভাড়া ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য ২০ শতাংশ টিকিট সংরক্ষণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তবে সব শহরে একই চিত্র নয়। বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে যাতায়াত ব্যয় এখনও তুলনামূলক বেশি। সেখানে সাধারণ ২০ ডলারের টিকিট বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৮০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালেও তাদের গণপরিবহনের ভাড়া আগের মতোই থাকবে। বর্তমানে সেখানে যাতায়াত খরচ ২ দশমিক ৯০ ডলার। এছাড়া কানসাস সিটিতে বাসের রিটার্ন টিকিট পাওয়া যাবে ১৫ ডলারে।
বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের ওপর এই ভাড়ার প্রভাব বেশি পড়তে পারে। কারণ তাদের বেশ কয়েকটি ম্যাচ এমন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যাতায়াত ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

