ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৩ জুন) সকালে দিল্লির ফ্লারিশ ইন হোটেলে আগুন লাগে। এতে ২১ জন অতিথির মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় এবং ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, রাঁধুনি কেশব নেগির অবহেলার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে হোটেলটির মালিক লাভকেশ বাজাজকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলের রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার পর একটি বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর কেশব নেগি নিজের প্রাণ বাঁচাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। তিনি দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরণের পর তিনি হোটেলের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে বাইরে চলে আসেন।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে হোটেলের ইলেকট্রনিক দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়। এতে বহু অতিথি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এক দম্পতি বাথরুমে আটকা পড়ে শ্বাসরোধে মারা যান, কারণ তারা দরজা খুলে বের হতে পারেননি।
তদন্তকারীদের মতে, কেশব নেগির এই অবহেলাপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে অনেক মানুষ আগুনে ঘেরা ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় হোটেলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডকে ২০২২ সালের পর দিল্লির সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

