নরসিংদীর খামার ও হাটগুলোতে এখন দেশীয় জাতের গরুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরুতে খামারগুলো প্রায় পূর্ণ। পাশাপাশি অনলাইন ও খামার পর্যায়ে কেজি দরে লাইভ ওয়েট (ওজন অনুযায়ী) বিক্রিও শুরু হয়েছে।
বর্তমানে গরুর দাম গড়ে কেজিপ্রতি প্রায় ৬৫০ টাকা ধরা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ক্রেতারা পছন্দের পশু বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
খামারিরা জানান, ভারতীয় গরুর প্রবেশ না থাকলে এ বছর তারা ভালো মুনাফা আশা করছেন।
জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার ছয়টি উপজেলায় খামারগুলোতে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার নরসিংদীতে মোট ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে স্থানীয় চাহিদা প্রায় ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজারের বেশি পশু পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
খামারগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। অনেক কৃষকও পারিবারিকভাবে পশু লালন-পালন করে কোরবানির মৌসুমে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে ক্রেতারা গরুর ওজন অনুযায়ী সরাসরি দাম পরিশোধ করতে পারছেন, ফলে প্রতারণার ঝুঁকি কমছে এবং কেনাকাটা সহজ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খামার থেকেই ক্রেতার বাড়িতে গরু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
নরসিংদীর বিভিন্ন খামারে বর্তমানে ৩৫০ কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের গরু রয়েছে। তবে খাদ্য, শ্রম ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির কারণে লাভ নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে খামারিদের মধ্যে।
হাম্বা ফার্মের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, এ বছর প্রায় ৬০ শতাংশ গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুত বিক্রির আশা করছেন তারা।
গ্রিন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার জানান, তাদের খামারে ২০০টি গরু প্রস্তুত রয়েছে এবং কেজি অনুযায়ী ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা খামারে এসে পছন্দ করে গরু কিনছেন এবং ঈদের আগে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, নিরাপদ ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

