ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বাহ্রা চরকান্দা গ্রামের হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের ছেলে মো. রাকিবুজ্জামান (৪৬) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বকসনগর ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ বটতলা এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আহতরা হলেন রাকিবুজ্জামানের দুই ছোট ভাই রাব্বি (২৭) ও রুমেল বাবু (৪০) এবং ভাতিজা ইকবাল (২৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাদীপক্ষ ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে।
সোমবার রাতে রাকিবুজ্জামান, তার দুই ভাই রাব্বি ও রুমেল বাবু কোমরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কোমরগঞ্জ বটতলা সংলগ্ন পাকা সড়কে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
তাদের চিৎকার শুনে ভাতিজা ইকবাল ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাহ্রা চরকান্দা গ্রামের সামির (২২), বাবু (৩২), সাব্বির (২৭), ওয়াসিম (২৮), হাসান (২১), সোহেল (৩০), হৃদয় (২০), বোরহান (৪৫), সবুর (৪৭), শান্ত (২২) ও আরিফ (১৯)সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

