রংপুরের বদরগঞ্জে প্রতিবেশী চাচা কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ তিন মাসেও প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, ধর্তব্য অপরাধের শিকার ওই নাবালিকা শিক্ষার্থী সম্প্রতি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। অভাবের সংসারে নবজাতককে নিয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লম্পট শরিফুল ইসলাম (২৭) স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী এবং ওই শিক্ষার্থীর প্রতিবেশী চাচা (আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে)। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা একজন দরিদ্র কৃষি শ্রমিক, যিনি প্রতিদিন ভোরে কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যেতেন। এই সুযোগে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ওপর লোলুপদৃষ্টি পড়ে শরিফুলের।
নানাভাবে ফুসলাতে ব্যর্থ হয়ে একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শরিফুল ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য এবং কাউকে বললে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটিকে একাধিকবার ধষর্ণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি শরিফুলকে জানানো হলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। উপায়ান্তর না দেখে চলতি বছরের ১ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন:
“দিনমজুরির আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। গত ১৫ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটার সিজার করে সন্তান হয়েছে। মানুষের কাছে ধারদেনা করে ১২ হাজার টাকা জোগাড় করে মা ও সন্তানকে বাড়িতে এনেছি। এখন বাচ্চার খরচ আর মেয়ের চিকিৎসার খরচ টানতে পারছি না। অভাবের সংসারে মেয়ে আর এই নবজাতককে নিয়ে কই যাব? সরকারের কাছে আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার ও তার সন্তানের একটা ব্যবস্থা চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মামলা দেওয়ার ৩ মাস পার হলেও পুলিশ শরিফুলকে ধরছে না। উল্টো শরিফুলের বাড়ির লোকজন আমাদের গালিগালাজসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা গরিব বলেই কি বিচার পাব না?”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পরিবারটি তীব্র সামাজিক লাঞ্ছনা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহেদ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার পর থেকেই শরিফুল বাড়িতে নাই। ওই ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”
আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান:
“থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামি শরিফুল আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
ধর্ষকের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সদ্যজাত শিশু ও তার নাবালিকা মায়ের পুনর্বাসনের দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
Previous Articleমানিকগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক মেয়ে
Next Article পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভয়াবহ সংঘর্ষে এক রোগীর মৃত্যু
Related Posts
Add A Comment

