আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রগুলো। নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু, এক নারী এবং এক বৃদ্ধ রয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগান সরকার।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে নতুন করে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় ১১ শিশু, এক নারী এবং এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্পেরা জেলায় একটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হলে সেখানে ৯ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন।
এদিকে, প্রতিবেশী পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় নিহত তিনজনই শিশু।
হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, আফগানিস্তানে পরিচালিত অভিযানে কেবল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এরপর কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে।
এর আগে সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। কান্দাহারেই তালেবানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান বলে জানা যায়।
গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাতের ফলে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আফগান সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, আফগান কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেই বিভিন্ন শত্রু গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। সীমান্তে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে গত অক্টোবর থেকে দুই দেশের সীমান্ত বেশির ভাগ সময় বন্ধ রয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

