ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফয়জুল্লা (৩৯) নামে তিন সন্তানের জনক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নৃশংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত ফয়জুল্লা ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে আম খাওয়ানোর কথা বলে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে কিশোরীটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত ফয়জুল্লাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ভুক্তভোগীর এক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“মেয়েটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। তার এই চরম অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
কিশোরীর চাচি বলেন, “ঘরে গিয়ে দেখি মেয়েটি আতঙ্কে কান্নাকাটি করছে। এমন জঘন্য ঘটনার সঠিক বিচার না হলে সমাজে অপরাধীরা আরও পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাবে।”
তবে আটক হওয়ার পর অভিযুক্ত ফয়জুল্লা তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উদ্বেগ ও আইনি প্রক্রিয়া
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা সাধারণ মানুষের তুলনায় যৌন সহিংসতার অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। নিজেদের সুরক্ষা, প্রতিবাদ বা আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। ফলে অনেক ঘটনাই আড়ালে আবডালে থেকে যায়, প্রকাশ্যে আসে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি।
পুলিশের বক্তব্য: বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর চাচি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার আসামিকে ইতিমধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

