তামিলনাড়ু বিজেপির অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা কে. অন্নামালাই দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিজেপি জানায়, দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন অন্নামালাইয়ের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নীতিন নবীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দলত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান অন্নামালাই। পরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বি. এল. সন্তোষের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
পর্দার আড়ালে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও সমাধান আসেনি। অন্নামালাইয়ের উত্তরসূরি ও বর্তমান তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি নৈনার নাগেন্দ্রনকেও দিল্লিতে ডেকে বৈঠক করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি অন্নামালাই।
তবে অন্নামালাইয়ের বিদায়ে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেছেন নৈনার নাগেন্দ্রন। তিনি বলেন, “বিজেপি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। অন্নামালাইয়ের পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।”
নিজের পদত্যাগপত্রে অন্নামালাই লিখেছেন, “জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষায় কথা বলেনি। আমি সেই ধারণা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, গত ১৮ মাস ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার মতপার্থক্য ছিল। সেই মতবিরোধের জেরেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সাবেক ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা অন্নামালাই নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্নামালাই ২০২০ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের রাজ্য সহ-সভাপতি এবং পরে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি হন। ধীরে ধীরে তিনি দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির সঙ্গে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম (এআইএডিএমকে)-এর জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই অন্নামালাইয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতপার্থক্য প্রকট হয়ে ওঠে। তিনি চেয়েছিলেন বিজেপি এককভাবে নির্বাচন করে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করুক। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করায় শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি

