রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
নজিরবিহীন দ্রুততায় বিচার সম্পন্ন
হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র ২০ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হলো। আদালত সূত্রে মামলার ঘটনাক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:
- ১৯ মে: পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা।
- ২০ মে: পল্লবী থানায় মামলা দায়ের এবং প্রধান আসামি সোহেল রানার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।
- ২৪ মে: তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান কর্তৃক আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল।
- ১ জুন: আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।
- ৪ জুন: উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (৭ জুন) ধার্য করা হয়।
যেভাবে নির্মমতার শিকার হয় রামিসা
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ খণ্ডিত করে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে তারা ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

