বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় চলতি বছরের জন্য ৭১ দশমিক শূন্য পাঁচ কোটি মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ ও তার অংশীদার সংস্থাগুলো।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে তহবিলের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করে এই আহ্বান জানানো হয়। এটি জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)-এর আওতায় কক্সবাজার ও ভাষানচর এবং টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য চাওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইউএনএইচসিআর-এর কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপি-এর রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেন-এর নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই তহবিল দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, আশ্রয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা উন্নয়নসহ আটটি খাতে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ খাদ্য সহায়তা, এরপর বাসস্থান ও পানি-স্যানিটেশন খাত।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। নতুন করে ২০২৪ সালের শুরু থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানানো হয়। ফলে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যার চাপ ও মানবিক সংকট আরও বেড়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৭১.০৫ কোটি ডলারের এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম হলেও এটি ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। তবে সে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
ইউএনএইচসিআর–এর ডেপুটি হাই কমিশনার কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবনমান উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
ডব্লিউএফপি-এর কর্মকর্তা রানিয়া দাগাশ-কামারা বলেন, বাংলাদেশের উদারতায় বিপুলসংখ্যক শরণার্থী আশ্রয় পেয়েছে, তবে মানবিক সহায়তাই চূড়ান্ত সমাধান নয়—প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ইউএন উইমেন জানায়, তহবিল কমে যাওয়ায় বিশেষ করে নারী ও মেয়েরা আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং তাদের জন্য টেকসই সহায়তা জরুরি হয়ে উঠেছে।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় ৫.৪২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে, যার বড় অংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দাতা দেশ থেকে।
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে নতুন উদ্যোগ

