নিউ জার্সির বিশাল স্টেডিয়াম ঘিরে ছিল বেশ নীরব পরিবেশ। সেনেগাল দলের বাস, কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও সাংবাদিক ছাড়া আশপাশে তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। আগামীকাল নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সময় বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও।
নরওয়ের নাম এলেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে আর্লিং হালান্ড। সংবাদ সম্মেলনেও সেনেগাল কোচকে নরওয়ে দল নিয়ে যতটা প্রশ্ন করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন ছিল হালান্ডকে ঘিরে।
পাপে থিয়াও বলেন, হালান্ড নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তবে তাদের পরিকল্পনা শুধু একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে নয়, পুরো নরওয়ে দলকে সামনে রেখেই সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ম্যাচের আগে কৌশলগত নানা আলোচনা স্বাভাবিক বিষয়। তবে হালান্ডের মতো খেলোয়াড়কে থামাতে আলাদা পরিকল্পনা অবশ্যই প্রয়োজন।
থিয়াওর ভাষায়, ‘এ ধরনের খেলোয়াড়কে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা লাগবেই।’
‘আই’ গ্রুপে জমে উঠেছে লড়াই
ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ‘আই’ গ্রুপে রয়েছে সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক। প্রথম ম্যাচে নরওয়ে ৪-১ গোলে ইরাককে হারিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে সেনেগালকে।
এ অবস্থায় সেনেগাল-নরওয়ে ম্যাচটি গ্রুপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ম্যাচে জয় পাওয়া দল নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে বড় সুবিধা পাবে।
দুই দলের শক্তিমত্তা কাছাকাছি হলেও পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন আর্লিং হালান্ড। তাই সংবাদ সম্মেলনজুড়ে আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিলেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তবে সেনেগাল কোচ বারবারই জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের ভাবনায় শুধু হালান্ড নন, পুরো নরওয়ে দলই রয়েছে।
চাপে সেনেগাল
২০০২ বিশ্বকাপে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে বড় চমক দিয়েছিল সেনেগাল। তবে এবার সেই ফ্রান্সের কাছেই হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করায় কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান দলটি।
আগামী ম্যাচে হারলে নকআউট পর্বে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়বে সেনেগালের জন্য। তখন তৃতীয় স্থান বা সেরা আটে থাকার জন্য পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানের হিসাবের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তবে কোচ পাপে থিয়াও জানিয়েছেন, তারা এখনই জটিল সমীকরণ নিয়ে ভাবছেন না। তার মতে, টুর্নামেন্টে এখনো মাত্র একটি ম্যাচ হয়েছে এবং পুরো মনোযোগ নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই।
তিনি বলেন, এই ম্যাচই তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সব পরিকল্পনা ও কৌশল সেই ম্যাচ ঘিরেই সাজানো হচ্ছে।

