সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিজিবির সোর্স সন্দেহে আঙ্গুর মিয়া (যুবক) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে তাকে হত্যা করা হয় বলে নিহতের স্ত্রী, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাই সীমান্ত গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে সোমবার (১৮ মে) রাতে তাহিরপুর থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজাই গ্রামের আকরাম হোসেন, তার সহোদর জাকির হোসেন, মাফিক, হেলালসহ আরও কয়েকজন। এছাড়া ২–৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (১৬ মে) দিবাগত ভোররাতে আঙ্গুর মিয়া বিজিবির সোর্স সন্দেহে স্থানীয় চোরাকারবারিদের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
তারা জানান, বিজিবির একটি টহল দল ওই রাতে এলাকায় ভারতীয় বিড়ির চালান আটক করার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর সন্দেহভাজন চোরাকারবারিরা তাকে নজরদারিতে রেখে পরে হত্যার হুমকি দেয়।
পরিবারের দাবি, পরদিন বাড়ির কাছের এলাকা থেকে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। রোববার (১৭ মে) সকালে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তবে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স ছিলেন না। তার ধারণা, সন্দেহের ভিত্তিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

