পাবনার সুজানগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা সাত দিন ধরে অবস্থান করছেন এক কলেজছাত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক তাহজিদ হোসাইন বিপ্লব মোল্লা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের উলাট মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে ওই কলেজছাত্রীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
অভিযুক্ত তাহজিদ হোসাইন বিপ্লব মোল্লা মালয়েশিয়া প্রবাসী শফি মোল্লার ছেলে এবং পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী তরুণী সুজানগর উপজেলার বোনকোলা কলেজের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় দুই বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তাদের একসঙ্গে ঘোরাঘুরি ও সময় কাটানোর বিভিন্ন ছবি এবং অন্যান্য প্রমাণও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
কলেজছাত্রীর অভিযোগ, এখন বিপ্লব বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার সম্মান রক্ষার জন্য তার সঙ্গে বিয়ে ছাড়া আর কোনো পথ নেই।” বিপ্লব বিয়ে না করলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। এখন বিয়ে না করে ছেলেটি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় সমাজসেবক সান্টু মোল্লা জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, উভয় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে বর্তমানে ছেলেটি পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত বিপ্লবের মা বিউটি খাতুন বলেন, তার ছেলে বাড়িতে না থাকায় মানবিক কারণে মেয়েটির খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ রয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

