অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থায় রেখে গেছে। সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ১৭ তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি জানান, শুধু জ্বালানি খাতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাত ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি এখনো ভালো অবস্থানে নেই। তবে এর মধ্যেও এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে, যাতে হতদরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পায়।”
স্বাস্থ্য খাতে অতীতের অনিয়মের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, আগের সরকার আমলে স্বাস্থ্যখাতের বড় অংশের বরাদ্দ লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায় শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা মনিটরিংও করবে।
মেডিকেল শিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো যাবে না। রাজনৈতিকভাবে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট হয়।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ পেশাদারিত্ব নষ্ট করে, তাই সরকার সে পথে হাঁটবে না।
মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করছে সরকার। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে খরচ সরকার বহন করবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাব রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও অধ্যক্ষ অসীম বড়ুয়া।
পরে অর্থমন্ত্রী নগরীর আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, নবীন বরণ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

