পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা ২১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে অবশেষে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থানের পর রোববার মধ্যরাত ও সোমবার গভীর রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে পুশইনের শিকার ১১ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে ৪৮ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
জানা গেছে, গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর তারা তিন দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, পুশইনের শিকার ওই ১১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ৪৮ ঘণ্টা পর মধ্যরাতে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইনের শিকার আরও ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ। সোমবার গভীর রাতে ভারতের সীমান্তের লাইট কয়েক দফায় বন্ধ করে বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের সরিয়ে নেয়। পরে আবার সীমান্তের আলো চালু করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাতে বিএসএফ বিজিবিকে জানায় যে তারা পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের ফেরত নিতে চায়। বিজিবি এতে সম্মতি দেয় এবং দ্রুত তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে বিএসএফ তাদের একটি গাড়িতে করে পাশের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, “বিজিবি কখনোই পুশইন মেনে নেবে না। এ বিষয়ে বিএসএফকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বড়বাড়ি প্রধানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, রাত ২টার দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের নিতে আসে। একপর্যায়ে তাদের গেটের কাছে নিয়ে গিয়ে আবার শূন্যরেখায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে কিছু সময়ের নাটকীয়তার পর পুনরায় তাদের নিয়ে গিয়ে একটি ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। পরে বিওপি, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে তিনটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ প্রথমে তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
রোববার দুপুরে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।
পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করে বিজিবি। মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং সীমান্তে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সহযোগিতা চাওয়া হয়।
দীর্ঘ উত্তেজনার পর সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরে মধ্যরাত ও গভীর রাতে বিএসএফ পুশইনের শিকার ২১ জনকেই নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

