যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে ছামিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী সুজন (২৫) নিজের শরীরে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তমালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।
নেশার টাকা নিয়ে বিরোধ, অতঃপর নির্মমতা
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার তরফনওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘাতক সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন এই দম্পতি। সুজন আগে বিদেশে ছিলেন। বর্তমানে বেকার থাকায় আবারও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্বজনরা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ছামিনা গুরুতর জখম হন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তে দেখে সুজন নিজেও নিজের বুকে ও শরীরে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে তাকেও উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের বক্তব্য: যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম জানান, “ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। অন্যদিকে সুজনের শরীরেও একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।”
হাসপাতালে চরম উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন
এদিকে ছামিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিকিৎসাধীন সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা চালান ছামিনার বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল জানান, “ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রেম ও আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্রে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
সর্বশেষ
- LDPlayer Android Emulator Cracked Stable FileHippo
- AKVIS All Plugins Pack Crack only Universal Stable
- Tensei shita Daiseijo wa, Seijo de Aru Koto wo Hitakakusu 2026 HDRip x264 𝐘𝐓𝐒 𝐓𝐨𝐫𝐫𝐞𝐧𝐭 .t𝐨rr𝐞nt
- Reanimal Bypass Fix Tiny Girl Repack PC Version
- Office 2026 LTSC Professional Plus Debloated KMS Activated All-In-One P2P release
Tuesday, September 1

