জমি বিক্রি ও ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পারভীন বেগম (৩০) নামে এক নারী গার্মেন্টস কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন নিজেই একটি অডিও বার্তায় তার এই পরিণতির জন্য ভাতিজিকে দায়ী করে গেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পারভীন বেগম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবাগ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল হক পাটোয়ারীর মেয়ে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
নিহতের বড় বোন জোছনা বেগম রোববার (২১ জুন) সংবাদকর্মীদের জানান, পারভীন বেগম তার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ৬ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। সেই জমি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার সঙ্গে একই বাসায় থাকা ভাতিজি লতা। এছাড়া বিয়ে ও গর্ভাবস্থার খরচের জন্য বিভিন্ন সময়ে পারভীনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ধার নেয় লতা।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পারভীন জমি বিক্রি এবং ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ভাতিজি লতা ও তার স্বামী মনিরের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পারভীনের ওপর দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পারভীনের পাঠানো একটি অডিও বার্তা। জোছনা বেগমের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পাঠানো ওই বার্তায় পারভীন বলেন, লতা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে এবং তার মৃত্যুর জন্য লতাই দায়ী থাকবে।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, পারভীনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং ঢাকায় থাকা অন্য স্বজনদের না জানিয়েই রাতের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ ভোলার চরফ্যাশনে পাঠানো হয়।
শুক্রবার সকালে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। হত্যার অভিযোগ তুলে তারা দাফন স্থগিত করেন এবং চরফ্যাশন থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, পারভীন বেগমের মৃত্যু হত্যা নাকি স্বাভাবিক—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। যেহেতু মূল ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে, তাই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা গ্রহণ করবে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

