পাবনা সদর উপজেলায় রিয়া খাতুন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকালে একই হাসপাতালে আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৫), পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২২) এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বিকালে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ কিশোরী রিয়া খাতুনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৪ জুন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। দাফনের পরই উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন নেভাতে আসা এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনও দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় আসামিরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা মূলত প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, দগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নাইমসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা রিয়া খাতুনকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

