ভারতের গুরুগ্রামের বান্স আলিয়ার গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, গভীর রাতে স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখে সন্দেহের বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৩৭ বছর বয়সী নরেন্দ্র সিং তার ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী কাজল দেবী এবং চার সন্তানকে নিয়ে আইএমটি মানেসরের বান্স আলিয়ার গ্রামে বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কাজল দেবী প্রতিদিন রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফিরলেও নরেন্দ্র সাধারণত গভীর রাতে বাড়িতে ফিরতেন।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে নরেন্দ্র সিং তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন কার সঙ্গে কথা বলছেন এবং তার ব্যবহৃত ফোনটি দেখতে চান। তবে কাজল দেবী ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সন্দেহ ও ক্ষোভের বশে নরেন্দ্র সিং ওড়না দিয়ে স্ত্রীর শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই কাজল দেবীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় দম্পতির চার সন্তান বাড়ির ছাদে ঘুমিয়ে ছিল। পরে নিহতের বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে আইএমটি মানেসর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে নরেন্দ্র সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

