ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মাদকসহ আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং প্রয়াত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে অতিরিক্ত মারধরের কারণেই প্রান্তর মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল গোন্দারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
নিহতের চাচা মির্জা ইমরুল কায়েস অভিযোগ করে বলেন, “রাতে ডিবি পুলিশ তাকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে গেছে। সকালে শুনি সে হাসপাতালে মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ফাঁকা জায়গা থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানায় রাখা হয়। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রান্তকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ফেসবুকে এক পোস্টে প্রান্তর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকসহ আটকের পর ওই আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে প্রান্তর মৃত্যু হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

