পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানি বা আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মহাকাশ বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আলি আল-সালেম এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। তাদের অভিযোগ, কিশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকায় অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলার পরই তারা পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোররাত সাড়ে ১টার দিকে চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আইআরজিসি নৌবাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। পরে একটি ট্যাঙ্কারের গতি থামিয়ে দেওয়া হলে বাকি তিনটি জাহাজ ফিরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের দুটি যোগাযোগ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো নিরাপদ রয়েছে।
হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উভয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এক কড়া বার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে ইরান আরও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও পড়বে।
এদিকে সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।

