নিজের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বুধবার (৬ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই। এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে—দ্বিতীয় বিয়ে।”
এই পোস্টের পরপরই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী-এর এক ব্যাখ্যামূলক পোস্টে। তিনি কীভাবে মাদানীর শ্বশুর হলেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত লিখে সম্পর্কের জটিল হিসাব তুলে ধরেন।
বুধবার দুপুরে দেওয়া পোস্টে কাসেমী লেখেন, অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারছেন না—তাই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তিনি জানান, হাফেজ ইমাম উদ্দিন তার বড় চাচার জামাই হওয়ায় তিনি তার দুলাভাই। পরবর্তীতে ইমাম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে কাসেমীর বিয়ে হওয়ায় তিনি তার শ্বশুর হন। এছাড়া পারিবারিক আরও কয়েকটি বিবাহসূত্রে জটিল আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী হাফেজ ইমাম উদ্দিনের চতুর্থ স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। ফলে পারিবারিক হিসেবে তারা এখন ভায়রা ভাই—এমনকি মজার ছলে কাসেমী দাবি করেন, “অবশেষে মাদানী ভাইও আমার শ্বশুর হয়ে গেলেন।”
এদিকে, কাসেমীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সামনে এসেছে।
জানা গেছে, মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী এ পর্যন্ত মোট ৯টি বিয়ে করেছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার করা ৯টি বিয়ের মধ্যে বর্তমানে চারজন স্ত্রী তার সঙ্গে রয়েছেন। তিনজন তাকে তালাক দিয়েছেন এবং বাকি দুজনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

