একজন ব্যক্তির পরিচয় কি শুধুই তার পরিবার, নাকি তার নিজস্ব মেধা ও কর্মই আসল? এই চিরন্তন বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গবেষক ড. শামারুহ মির্জা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বাবার সরকারি অবস্থানকে টেনে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।
“আমি তো সরকারে নেই”
গত কয়েকদিন ধরে নেটমাধ্যমে শামারুহ মির্জাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য ভেসে আসছিল। সমালোচকদের মূল লক্ষ্য ছিল তার পারিবারিক সম্পর্ক। এর প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন ব্যক্তিকে সবসময় তার পরিবারের লেন্স দিয়ে বিচার করা হবে?
নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন:
“এইটা একটা অদ্ভুত দেশ। আমি একটা কথা বললাম, অমনি শুরু হয়ে গেল— ‘সে এটা বলল, অথচ ওর বাবা সরকারে!’ তো? আমি তো সরকারে নেই!”
তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি কোনো ‘ম্যাজিক ল্যাম্প’ নন যে চাইলেই সরকারের কাজে বা নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপ করবেন। যিনি নিজে সরকারের কোনো অংশ নন, তার কাছ থেকে এমন প্রত্যাশা করা কতটা যুক্তিযুক্ত বা নৈতিক, সেই প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
পরিবারতন্ত্রের সংস্কৃতির সমালোচনা
শামারুহ মির্জা বাংলাদেশের প্রচলিত ‘পরিবারতন্ত্রের সংস্কৃতি’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার পোস্টে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো হলো:
নারীর স্বাধীন সত্তা: একজন নারীকে কেন সবসময় বাবা বা স্বামীর ছায়ায় দেখা হবে?
ব্যক্তিগত অর্জন: কেন তার নিজস্ব মেধা ও পরিশ্রমকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে না?
বিদেশের অভিজ্ঞতা: অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কেউ তাকে বংশপরিচয় দিয়ে বিচার করেনি, সেখানে তিনি নিজের যোগ্যতায় একজন গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
পেশাদার জীবনে মনোনিবেশ
পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই শামারুহ জানান, তিনি তার মা-বাবার অবদানের জন্য গর্বিত, কিন্তু সেই পরিচয়কে তিনি কখনও ব্যক্তিগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান না।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন তিনি। শামারুহ জানান, তার একমাত্র চাওয়া ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে তৃপ্ত এবং বর্তমানে তিনি পুনরায় তার গবেষণার কাজে ও পেশাদার জীবনে মনোনিবেশ করেছেন। অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্কে তাকে জড়ানো সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে সঙ্কেত দিয়েছেন।

